ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে সফল গোলাম মোস্তফা।

0
251

কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই। এই বিশ্বাস নিয়ে কারিগরি শিক্ষা গ্রহন করে গোলাম মোস্তফা আজ একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৯১ সালে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করেন। এরপর পরিবার থেকে উৎসাহ পাওয়ায় কারিগরি শিক্ষার জন্য ‘নভেরা টেকনিকেল স্কুল’ থেকে ১৯৯২-৯৪ সাল পর্যন্ত ৩ বছর মেয়াদী ‘ইলেকট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক টেকনিশিয়ান’ কোর্স সম্পন্ন করেন।

গোলাম মোস্তফা নওগাঁর মহাদেবপুর সদর উপজেলার মডেল স্কুলপাড়া শিক্ষক জয়েন উদ্দিন ও মা রাশেদা বিবি’র বড় ছেলে। ৫ ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী মরিয়ম বেগম গৃহিনী। তিনি দুই সন্তানের জনক। ছেলে মাহিন মতুর্জা ৭ম শ্রেনীতে পড়ে এবং মেয়ে জান্নাতুন মাওয়া এখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি।

‘নভেরা টেকনিকেল স্কুল’ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করার পর ১৯৯৫ সালে জানুয়ারি মাসে চাকুরি না খুঁজে রেডিও, টেলিভিশন, বৈদ্যুতিক মটর মেরামত ও সার্ভিসিং সেন্টার স্থাপন করেন নিজ এলাকায়। এরপর সফলতার সাথে সেচ পাম্প ও শিল্প কারখানার বৈদ্যুতিক মটর মেরামত করতে থাকেন। এর মধ্যে তিনি ১৯৯৭ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ এবং ২০০০ সালে ডিগ্রী কোর্স সম্পন্ন করেন।

কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধীনে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর সেচ প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপ হতে ডিজেল ইঞ্জিন অপসারণ পূর্বক বৈদ্যুতিক মটর/ সাব-মার্সিবল মটর পাম্প স্থাপন করে পুণরায় সেচ কাজ চালু করেছেন। বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর সেচ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশ থেকে বৈদ্যুতিক সাব-মাসিবল মটর পাম্প আমদানি করে কাজ করতে হয়।

ওইসব বৈদ্যুতিক মটর/সাব-মার্সিবল মটর পাম্প মেরামতের জন্য এর আনুসাঙ্গিক যন্ত্রাংশ ও রি-উইন্ডিং কেবলস অবৈধ ভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সংগ্রহ করতে হতো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দিনে দিনে ব্যাপক চাহিদা বাড়ায় ২০১০ সালে ইন্ডিয়া সফরের উদ্যেশে যান গোলাম মোস্তফা। সেখানে পরিদর্শন কালে তিনি বুঝতে পারেন যে, দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে শুধুমাত্র মেশিনারীজ আমদানী করে দেশের ব্যাপক চাহিদা মিটানো সম্ভব।

এরপর তিনি ২শ’ ডলার অগ্রিম প্রদান পূর্বক এলসি খোলার জন্য যাবতীয় পেপার্স সংগ্রহ করে যমুনা ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এ জমা দিয়ে মেশিন আমদানি করে কেবলস প্রস্তুত কার্যক্রম শুরু করেন। যাহা বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সহ সারা দেশে সরবরাহ করছেন। এখন কার্যক্রম আরো উন্নত করার লক্ষে উক্ত কেবলস দ্বারা বৈদ্যুতিক মটর/সাব-মারসিবল মটর পাম্প প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন আমদানি করা প্রয়োজন।

তিনি ২০১৫ সালে নওগাঁ বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় ৬ হাজার স্কয়ারফিট জায়গা ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন। নাম দিয়েছেন ‘প্যারাগন এগ্রো ইঞ্জিনিয়ারিং সাব মাসিবল পাম্প’ প্রোঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা। সেখানে বর্তমানে ১৬ জন কর্মচারী কাজ করছেন। আর সেচ, ওয়েলডিং, ড্রিল ও কাটিং মেশিন, হ্যান্ড ড্রিল, ইলেকট্রিক মটরসহ ১৭ ধরনের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি রয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা বলেন, বৈদ্যুতিক মটর/সাব-মারর্সিবল মটর পাম্প মানসম্মত দেশীয় ভাবে প্রস্তুত করা হলে ঢাকা ওয়াসা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর সেচ প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ চাহিদা মিটানো ও খাদ্য নিরাপত্তসহ আমদানী বিকল্প পণ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষিত থাকবে। যা দেশীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, বাহিরের দেশ থেকে সাবমাসিবল সেচ পাম্প স্পেয়ার পারস সব খরচ সহ আমদানি মূল্য ১৬৫০ টাকা। অথচ দেশীয় কাচামালের দাম ১৩৫০ টাকা। একই মানে টেকশই ‘বিএসটিআই’ কর্তৃক অনুমোদিত এবং বুয়েট পরীক্ষীত। সাব-মার্সিবল কৃষি সেচ পাম্প তৈরীতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ এ উদ্যেশ নিয়ে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে চলছেন। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

আগামী মিশন ২০২১ সালের মধ্যে সম্পন্ন পাম্প তৈরী করা। বিভিন্ন সময় আমদানিকৃত সাবমার্সিবল পাম্প যে পাম্পগুলো অব্যবস্থাপনায় মেরামত যোগ্য পাম্প রয়েছে সেগুলো পুণরায় মেরামত করে নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চালু করা।তথ্যসূত্র:অনলাইন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here