ছাত্রজীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ।

0
376

বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে। আর ছাত্রজীবনটা শুধু পড়ালেখা করে কাটিয়ে দেবার জন্য নয়। আমাদের মত দেশে পড়াশোনা ছাড়া বেশীদূর আগানোটা খুবই কষ্টকর। তাই পড়ালেখার পাশাপাশি আয়ের একটি উৎস থাকলে পড়াশুনা আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছাত্রাবস্থায় করা যায় এমন কিছু আয়ের মাধ্যমের ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব।

টিউশনি : বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশুনার পাশাপাশি আয়ের কথা বললে প্রথম মাথায় আসে—টিউশনের কথা। এসময়ে সবথেকে সুবিধের আয়ের উৎস হল টিউশন করানো। আপনার সুবিধে মত ক্লাস থ্রি থেকে এসএসসি’র ছাত্র-ছাত্রীদের পড়িয়ে ভালো মুনাফা কামাতে পারেন। আর টিউশনির সবচেয়ে বড় সুবিধে হলো এতে বিনিয়োগ লাগে না।

ব্লগ : কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পড়াশোনার পাশাপাশি করার মত আরেকটি স্মার্ট আয়ের উৎস হচ্ছে ব্লগ। সপ্তাহে দু-তিনটা পোস্ট লিখতে আপনার খুব বেশি সময় ব্যয় হবে না। ছাত্রাবস্থায় প্যাসিভ ইনকামের কথা ভাবাই বেষ্ট, যেখানে আপনাকে সময় ও পরিশ্রম কম দেয়া লাগবে। ছোটখাটো একটা ওয়েবসাইট এর কোর্স করে নিজেই তৈরি করে ফেলুন নিজের ব্লগ।

ইউটিউব : লিখতে ভালো না লাগলে ব্লগের পরিবর্তে ভিডিও ধারণ করেও ভালো প্যাসিভ ইনকাম করতে পারেন ইউটিউব থেকে। এর জন্য আপনার দরকার মোবাইল অথবা কম্পিউটার, ক্যামেরা আর ইন্টারনেট। আর নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখিয়ে মজার মজার ভিডিও তৈরি ইউটিউবে আপলোড করে আয় করুন মাসে হাজার হাজার টাকা।

ফ্রিল্যান্সার : আপনার কোনো বিষয়ে ভালো দক্ষতা থাকলে বা আপনি যে বিষয়ে পড়াশোনা করছেন—তার উপর ফ্রিল্যান্সিং করুন। নতুন করে কোন বিষয় শিখে তার উপর ফ্রিল্যান্সিং করার থেকে, এতে করে আপনার উপর চাপ কম পড়বে। ফটোশপ, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভলপিং ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে ফিল্যান্সিং করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার : সোশ্যাল মিডিয়া—ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, স্নাপচ্যাট, পিন্টারেস্ট কি করে কাজ করে জানলে আপনি আপনার মেসের রুমে বসেই একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এর জন্য দরকার একটি স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার।

টি-শার্ট বিজনেস : আপনার কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টি-শার্টের ব্যবসা করতে পারেন। শীত বা গরমকে টার্গেট করে যেমন টি-শার্টের ব্যবসা করতে পারেন, তেমনি সারা বছরই টুকিটাকি কিছু টি-শার্ট বিক্রি করতে পারেন। শীতের সময় হুডির প্রচুর চাহিদা থাকে।

খাবার ব্যবসা : কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হালকা বা ভারী খাবার, যেমন—স্যান্ডউইচ, রোল, সেমাই, বিরিয়ানি, পোলাও, চিকেন, বিফ ইত্যাদি আইটেমের খাবার সরবরাহ করতে পারেন। এরজন্য আপনার একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে নিলেই যথেষ্ঠ হবে। এবং আপনাকে রান্না বান্না সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।

পোষা-প্রাণী সরবরাহ : অনেকেই আছেন যারা পোষাপ্রাণী যেমন রঙিন পাখি, অ্যাকুরিয়াম, বিড়াল, কুকুর ইত্যাদি রাখতে খুব পছন্দ করেন। আপনার ক্যাম্পাস বা আশেপাশের এমন মানুষের প্রয়োজন মিটিয়ে আপনি বেশ ভালোরকম আয় করে নিতে পারেন।

ষ্টেশনারী পণ্য সরবরাহ : কলম, খাতা, প্যাড, নোট, জ্যামিতি ইত্যাদি ছাত্রদের দরকারি সকল ধরনের জিনিস সরবরাহ ছাড়াও ক্যাম্পাসে ফটোকপি মেশিন, প্রিন্টারের ব্যবসা করতে পারেন।

হল/মেসের ফার্নিচার সরবরাহ : হলে বা মেসে থাকতে হলে অনেক আসবাব কেনার দরকার পড়ে—পড়ার টেবিল, চেয়ার, খাট, বই রাখার জন্য বক্স বা আলমারি ইত্যাদি। আপনি এসব ফার্নিচার কম দামে পুরাতনটা কিনে কিছু লাভে বিক্রি করতে পারেন।

বোনাস আইডিয়াঃখামার : যদি গ্রামের কাছে থেকে পড়াশোনা করেন—তবে অল্প খরচে কিছু হাঁস-মুরগি বা গরু-ছাগলের খামার করতে পারেন। দুইটা গরু দিয়ে শুরু করুন, বছর ঘুরতেই দেখবেন চারটা হয়ে গেছে। আর শহরে থাকলেও এলাকায় অনেক অসচ্ছল মানুষ আছে, যাদের কাছে আপনি গরু/ছাগল কিনে দিয়ে রাখতে পারেন। আপনার কোনো পেরেশানি ছাড়াই আপনার টাকা বাড়তে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here