টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমানের সফলতার পেছনের গল্প

0
214

ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন চুপচাপ স্বভাবের। তবে কোনো জিনিস একবার মাথায় ঢুকলে সেটা তার মাথা থেকে তাড়ানো সম্ভব না। এমনকি ছোট্টবেলায় গ্রামে যখন খেলনা গাড়ি বানাতেন, সেটাও হওয়া চাই পারফেক্ট। আজ তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাবিলন গ্রুপের অবনী টেক্সটাইল লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেব কাজ করছেন। তিনি আজিজুর রহমান, এই প্রজন্মের মেধাবী একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তার হাত ধরে এই টেক্সটাইল মিলটি অনেক দূর এগিয়েছে। দেশের বাইরেও তাদের পণ্যের যথেষ্ট সুনাম। তার কিছু প্রমাণ আমাদের দেশেও রয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউস ট্রেন্ডজ-এর পেছনের কারিগর তারা।

আজিজুর রহমানের বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প নিয়ে আলোচনায় অনেক কথা জানান। এই খাত ধীরে ধীরে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্বের বস্ত্র চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে দিনে আমাদের দেশে অসংখ্য বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা। তাই পেশা হিসেবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বা বস্ত্র প্রকৌশলী যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সবক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সুতা থেকে পোশাক বানানোর প্রযুক্তিনির্ভর পুরো প্রক্রিয়াটিই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়। যেকোনো আঁশ থেকে সুতা, বস্ত্র এবং রঙের মিশেলে অধিকতর উপযোগী জিনিস বানানোর যে প্রযুক্তি এক কথায় তা-ই হলো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। এর চারটি পর্যায় রয়েছে—সুতা, কাপড় তৈরি, সুতা বা কাপড় রং করা এবং সবশেষে পোশাক তৈরি। এ চারটি পর্যায়কে আবার চারটি বিষয়ে ভাগ করা হয়েছে। যেমন ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং, ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং, ওয়েট প্রসেসিং এবং গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি। প্রযুক্তি যেখানে, প্রকৌশলীদের প্রয়োজনও সেখানে। আর এ জন্য দেশ, দেশের বাইরে অনেক জানাশোনার সুযোগ রয়েছে। কাজের প্রয়োজনে আজিজুর রহমান কোরিয়া, জার্মানি, চীন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ডসহ অনেক দেশ সফর করে নতুন অনেক কিছু শিখেছেন।

আজিজুর রহমান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, যেহেতু এখন অধিকাংশ বস্ত্রশিল্প কারখানায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, ফলে সেখানে প্রয়োজন হচ্ছে একজন বস্ত্র প্রকৌশলীর। নিট পোশাকের রফতানি বেড়ে গেছে ব্যাপক হারে। আর রফতানি নির্ভর করে মানসম্পন্ন উত্পাদনের ওপর। বস্ত্র প্রকৌশলীরা চাইলে ফ্যাশন জগতেও ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশে বস্ত্র প্রকৌশলীদের অপ্রতুলতার কারণে এ পেশায় রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। এ ছাড়া বস্ত্র প্রকৌশলীরা ইচ্ছা করলেই পুঁজি সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে স্থাপন করতে পারেন টেক্সটাইল মিল। আর এ জন্য সব সময়ই আমাদের প্রযুক্তির সাথে আপডেট থাকতে হবে, সেটার প্রয়োগও থাকতে হবে বাস্তবে।’

আজিজুর রহমানের ছেলেবেলা কেটেছে চাঁদপুরে কিছুদিন। স্কুলে কেউ তাকে কোনোদিন এক থেকে দুই রোলে নামাতে পারেনি। ঢাকায় এসে কঠোর প্রতিযোগিতার মাঝেও তিনি প্রথম হতেন সব সময়। খুব ভালো ফলাফল করেই তিনি এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। তারপর অনেক জায়গায় ভর্তির সুযোগ পেয়েও টেক্সটাইলে ভর্তি হন, আজ প্রমাণ হয়েছে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। এখন কারিগরি বিষয়ের সাথে ফ্যাক্টরি চালানোর মতো বিশাল দায়িত্বটিও তার হাতে। সেটা দক্ষতার সাথেই করছেন তিনি। ঢাকায় লালমাটিয়াতে স্ত্রী নার্গিস আক্তার এবং দুই সন্তান আদনান রহমান ও সুমাইয়া রহমানকে নিয়েই কেটে যায় আজিজুর রহমানের সুখের সময়।

প্রিয় উক্তি:নিজের বিবেক, পরিবার ও দেশের প্রতি আন্তরিক হও, ভালোকিছু করার চেষ্টা কর।সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা ও কর্মনিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেলে সাফল্য আসবেই। এ স এ ম আজিজুর রহমান, জেনারেল ম্যানেজার,অবনী টেক্সটাইলস লিমিটেড, ব্যাবিলন গ্রুপ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here