টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিকের সফলতার পেছনের গল্প

0
148

১৯৯৫ সালে, এসকোয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জে উত্পাদন কর্মকতা হিসেবে যোগদান করেন। এসকোয়ার গ্রুপে ইর্য়ান ডাইং, নিটিং, নিট ডাইং, ফিনিশিং ও গামের্ন্টস থাকার কারণে অল্প দিনের মধ্যেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সিনিয়র প্রোডাকশন অফিসার ও ডাইং ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান। এভাবেই ক্রমে এগিয়ে গেছেন তিনি। ২০০৩ সালে অক্টোবর মাসে আনলিমা ইর্য়ান ডাইং লিমিটেডে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগদান করেন সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক। এখনও সেখানেই কর্মরত রয়েছেন।

সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সামাজিক অবস্থা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সবকিছুতেই ঐতিহাসিকভাবে বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। সেই মসলিনের যুগ হতে বাংলাদেশ বস্ত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বর্তমানে টেক্সটাইল সেক্টরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মেধা-শ্রমকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সামাজিক মর্যাদার দিক থেকেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা প্রথম সারির। আর পারিশ্রমিকও অন্যান্য পেশার তুলানায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে তাদের অর্থনৈতিক ভিতও অনেক মজবুত।

সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নতুন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের প্রথমেই বৈরী পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় না। সাজানো পরিবেশে কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই তাদের চাকরি জীবনের শুরু হয়। ফলে তারা একটি সুস্থির শিক্ষার পরিবেশ পায়। নতুন প্রজন্ম অনেক মেধাবী ও সুশৃঙ্খল। এ কারণে তাদের সাফল্যও কম নয় টেক্সটাইল সেক্টরে। নতুনদের অধিকাংশ বায়িং হাউসের মার্চেন্ডাইজার পদে কাজ করছেন।

আগে এ পদে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও হংকংয়ের নাগরিকরা একচেটিয়া কাজ করত। সেই জায়গাগুলোতে নতুন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা কাজে এসেই সফলতা দেখাতে শুরু করেছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিকাশমান বস্ত্রশিল্পের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের আরও চৌকস হতে হবে। লিড টাইম কমানো, উত্পাদন ব্যয় কমানো, উত্পাদনের গুণগত মানকে গ্রহণযোগ্য করা, যুত্সই প্রযুক্তির দক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, শ্রম ব্যবস্থাপনায় আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যবহার, বাজার ব্যবস্থাপনায় সাফল্য লাভ করা ইত্যাদি বিষয়ে নতুন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা রাখা এখন সময়ের দাবি।’ তাই এখানে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে বলে জানালেন তিনি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প হলো—তৈরি পোশাক খাত। বর্তমানে এ খাত থেকেই সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এ শিল্প বিশ্ব বাজারে সুনাম অর্জনের পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান। মোট কথা, বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পে এটি একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বস্ত্র প্রকৌশল বিদ্যার উন্নতি।

বিশ্ব বাজারে প্রকৌশল বিদ্যার কাতারে বস্ত্র প্রকৌশল বিদ্যা এখন একটি উজ্জ্বল নাম। সবশেষে সফল এই মানুষটির শৈশব নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম, তিনিই শোনালেন তার গল্প, ‘আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঢাকার মণিপুরী পাড়ায়। ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে এইচএসসি ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তেজগাঁও ( বর্তমান বুটেক্স) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি। বাবা আবু সাঈদ মল্লিক মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কমকর্তা আর মা ডাক্তার।’

সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিকের স্ত্রী রুমানা আক্তার পিপলস ইউনিভার্সিটির সিনিয়ার লেকচারার। তাদের দুটি সন্তান। বড়জন ক্লাস থ্রিতে, ছোটজনের বয়স তিন বছর। এই নিয়েই তার সুখের সংসার। এর বাইরে বই মেলাতেও বেরিয়েছে তার বই ‘দূর আকাশে, দূর মৃত্তিকায়’। দায়িত্বের পাশাপাশি বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, আইইবি-এর টেক্সটাইল ডিভিশনের সেক্রেটারি তিনি।

প্রিয় উক্তি :নিজে সৎ হোন, অন্যকেও সৎ হতে বলুন।সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা, মেধা ও দক্ষতা—এই তিনের সমন্বয়ে সফলতা আসবেই।সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক ভাইস প্রেসিডেন্ট, আনলিমা ইর্য়ান ডাইং লিমিটেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here