টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার রুবেল আক্তার সোহাগের সফলতার পেছনের গল্প

0
113

নাসার বিজ্ঞানীরা যারা দীর্ঘদিন যাবত মহাকাশে মানুষ পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছেন, তারা অসংখ্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের গবেষণায় নিযুক্ত করেছেন স্পেস স্যুট এবং ন্যানোফাইবার, কার্বন ফাইবারের শিল্ড তৈরির জন্য। অতি সম্প্রতি বুয়েট নন-ওভেন জুট টেকনোলজিকে জিও-টেক্সটাইল হিসেবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজে ব্যবহার শুরু করেছে।

আগামীতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিত বিষয় হিসেবে যখন জিও-টেক্সটাইল পড়ানো হবে তখন এই কোর্সের জন্য বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদেরই শিক্ষক হিসেবে পাবে তারা। এমনই বাস্তবতা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের, জানালেন রুবেল আক্তার সোহাগ। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক শেষ করে কাজ করছেন মার্ক-আপ গ্রুপে।

সোহাগ বলেন, ‘শতকরা ৮০ভাগ লোকই জানেন না যে, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি মানে কাপড়-চোপড়ের ইঞ্জিনিয়ারিং না। এটি সম্পূর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং বেজড একটি প্রসেস যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ারকে মেশিন সেটাপ থেকে শুরু করে প্রসেস কন্ট্রোল, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, গিয়ার মেকানিজম এবং মেইন্টেনেন্স নিয়ে কাজ করতে হয়। স্পিনিংয়ের ইঞ্জিনিয়ারদের প্রোগ্রাম ইনপুট দেওয়া জানতে হয়। ওয়েট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারদের প্রথম সারির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। সব মিলিয়ে দায়িত্বপূর্ণ কাজ করতে হয় তাদেরকে। একটা ফ্যাক্টরি নির্ভর করে তাদের উপর।’

টেক্সটাইলের বর্তমান হালচাল জানতে চাইলে সোহাগ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন নামি-দামি ব্র্যান্ডের পোশাকের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সদস্যদের সামরিক পোশাক।। ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) একটি কারখানার দুটি ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পোশাক তৈরি হলেও তা সাধারণের জানার বাইরেই রয়ে যায়। ব্রিটিশ ও বেলজিয়ামের বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানায় ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনী ছাড়াও ব্রিটিশ পুলিশ এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশের সেনাবাহিনীর পোশাক তৈরি হয়। এগুলো নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয়।’

সোহাগ আরও বলেন, ‘টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি দুটি ক্ষেত্রেই রয়েছে চাকরির বিশাল ক্ষেত্র। সরকারি বিভিন্ন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজের রয়েছে অবারিত সুযোগ। সেই সাথে গার্মেন্টস শিল্পেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বায়িং অফিসে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে কাজ করে চলেছেন। টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে উত্পাদন কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হয় তাদের। মূলত একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারকে যেকোনো ছোট-বড় টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির পণ্য উত্পাদন কার্যক্রমের প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সোহাগ এর সাথে যোগ করেন, ‘টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষা জীবনের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরতদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে থাকলেও এ ক্ষেত্রে একজন ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাজীবনে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে না। কেননা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এই বিষয়ক যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের।

প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই তারা এই বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখে।’ সোহাগের ছেলেবেলা কেটেছে যশোরের ক্ষেত্রপালায় চিত্রাপাড়ের এক গ্রামে। খুব দুষ্টু ছিলেন সে সময়। এখনও গ্রামে গেলে সবার সাথে আড্ডা দিতে খুব ভালোবাসেন।সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম।রুবেল আক্তার সোহাগ, অপারেশন ম্যানেজারস, মার্ক-আপ গ্রুপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here