আরএসি ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ার, উচ্চশিক্ষা ও দায়িত্ব সম্পর্কে ধারনা

0
1066

আরএসি বা রেফ্রিজারেশন এবং এয়ার কন্ডিশনারিং টেকনোলজি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকৌশলের চারটি মূল শাখা- যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, ইলেকট্রনিক্স এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির সংমিশ্রণ। রেফ্রিজারেশন এবং এয়ার কন্ডিশনার (আরএসি) ইঞ্জিনিয়াররা সুপারমার্কেট, অফিস, স্কুল, হাসপাতাল এবং ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্টের মতো বিল্ডিংগুলিতে শীতল ব্যবস্থা নকশা করে, ইনস্টল করে এবং কাজ করেন।

তাদের কাজের আওতায় রয়েছে- সুপারমার্কেট, রেস্তোঁরা, হাসপাতাল, ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট এবং কারখানার মতো জায়গায় শীতলীকরন ব্যবস্থা নকশা করা, ইনস্টল করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা। অফিস, স্কুল, অবসর কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য আধুনিক ভবনের অভ্যন্তরে বায়ুর গুণমান, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে এমন সিস্টেম ইনস্টল এবং সার্ভিসিং।

ডিপ্লোমা ইন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং:ডিপ্লোমা ইন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে একজন কে হিটিং, রেফ্রিজারেশন এবং এয়ার কন্ডিশনিং টেকনোলজিতে শিক্ষানবিশ হিসাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

হিটিং, রেফ্রিজারেশন এবং এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মাধ্যমে বাণিজ্যিক এবং আবাসিক ক্ষেত্রে হিটিং, রেফ্রিজারেশন এবং এয়ার কন্ডিশনার সিস্টেমগুলির নকশা, ইনস্টলেশন এবং পরিষেবা বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করেন। এখানে এয়ার কন্ডিশনিং এবং রেফ্রিজারেশন অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য টুলস নির্বাচন এবং ক্লাইন্টদের সেবাদানের প্রশিক্ষনের পাশাপাশি হাইড্রোলিক এবং ফোর্সড এয়ার হিটিংয়ের সাথেও শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

এছাড়া আর যেসব বিষয় এই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত থাকে সেগুলো হলো- শক্তি নিরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণ, কন্ট্রাক্টিং ইস্যুজ, বাণিজ্যিক এইচভিএসি / আর নিয়ন্ত্রণ, হিটিং এবং কুলিং সিস্টেম কনফিগারেশন, এইচভিএসি / আর সিস্টেমের পরিবেশগত প্রভাব প্রভৃতি।

কোথায় করবেন ডিপ্লোমা ইন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং সারা দেশ জুড়ে ৪৯ টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং –এ ডিপ্লোমা করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এই কোর্সটি করা যায়।

ভর্তির যোগ্যতা:চার বছর মেয়াদি আট সেমিস্টারের এই কোর্সে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার পর যে কোন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা ইন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং কোর্সে ভর্তি হওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে GPA 2.00 পেয়ে পাশ করতে হবে। তবে নীতিমালা পরিবর্তন হতে পারে, সেক্ষেত্রে আপডেটেড তথ্য প্রযোজ্য হবে।

ডিপ্লোমা ইন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মান: ডিপ্লোমা ইনরেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং কোর্সটির মান HSC সার্টিফিকেটের তুলনায় বেশি, তবে এর মান স্নাতক এবং বিএসসি ডিগ্রির তুলনায় কম। এটি হল বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রবেশিক স্তর।

রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব:একজন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার তার প্রতিষ্ঠানে যে সব দায়িত্ব পালন করেন সেগুলো হল- শৃঙ্খলা বা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ এবং রেফ্রিজারেশনের বিশেষায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত এবং আধুনিক সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করে এর প্রযুক্তিগত সমস্যার বিশ্লেষণ করা। সিস্টেমগুলি সঠিকভাবে এবং সুরক্ষিতভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে মান পরীক্ষা করে চলমান সমস্যা নির্ণয় এবং সংশোধন করা।

ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রমগুলিতে উপযুক্ত কৌশল,সংস্থান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জাম প্রয়োগ নিশ্চিত করা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং রেফ্রিজারেশন সম্পর্কিত সমস্যাগুলি সংজ্ঞায়িত করা এবং চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সমাধান করা। হিটিং,বায়ুচলাচল,শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ,শীতলকরণ এবং রেফ্রিজারেশন সিস্টেমগুলির নকশা, ইনস্টলেশন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত করা স্কুল, অফিস ভবন এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা সহ আবাসিক,শিল্প,প্রাতিষ্ঠানিক এবং বাণিজ্যিক বাড়ির জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেম ডিজাইন করা।

সরাসরি ক্লায়েন্টদের সাথে দেখা করে মতামত গ্রহণ করা।অপারেশন, ইনস্টলার এবং রিপেয়ারিং ইঞ্জিনিয়ারদের মত সহকর্মীদের পেশাদারিত্বের সাথে টীমওয়ার্ক করা। নতুন সিস্টেম ডিজাইন করা বা বিদ্যমান সিস্টেম সমস্যার সমাধান বের করে এর হিসাব প্রস্তুত করা।

রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্র: সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন- বিভিন্ন আটোমোবাইল ও ফ্রিজ কোম্পানি, কিছু সরকারী দপ্তরে,প্রাণ-আরএফএল,গার্মেন্টস সেক্টরে চাকরি আছে।

এছাড়া আর যে সব প্রতিষ্ঠানে তারা যোগ দিতে পারেন সেগুলো হল-এয়ার কন্ডিশন ও রেফ্রিজারেটর আমদানিকারি ও বিক্রয়কারি প্রতিষ্ঠান কনসালটিং এবং ডিজাইন এজেন্সি, সরকারী সংস্থা, ফ্যাসিলিটি অফিস, এইচভিএসি সরঞ্জাম বিক্রয়কেন্দ্র, এয়ার কন্ডিশন এবং ইলেকট্রিক পণ্য মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান।

উচ্চ শিক্ষার সুযোগ: বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং -এ স্নাতক (B.sc) এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষা লাভ করা যায়।

ক্যারিয়ার হিসেবে রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং: টেকনিক্যাল কাজ হওয়ার কারণে এই সেক্টরে অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য বেশি দেয়া হয়। সেজন্যে প্রথমেই শিক্ষানবিশ হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এরপর যে কোন কনজিউমার সার্ভিস সেন্টারে আপনি সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দিতে পারেন।

আপনার কাজ হবে এয়ার কন্ডিশনার বা রেফ্রিজারেটর মেরামত করা যা ঐ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তৈরি এবং বিক্রি হয়েছিল।কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার পরে, আপনি মেন্টেইনেন্স প্রকৌশলী হতে পারেন। তখন আপনার কোম্পানির ক্লায়েন্টদের নিয়মিত সার্ভিসিং ছাড়াও প্রতিষ্ঠানে থাকা যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে।

কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা হলে আপনি কয়েকজন সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারের দলনেতা হিসেবে সুপারভাইজার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন। এভাবে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বলে একদিন সংস্থার প্রোডাকশন ম্যানেজার হতে পারবেন। বিদেশে এয়ার কন্ডিশনার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলির ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বেশি।

এই ডিপ্লোমা কোর্সের পরে আপনি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলিতে গবেষণা ওরিয়েন্টেড কোর্স গুলি করতে পারেন ভবিষতে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের জন্য। এর ফলে আপনি প্রোডাকশন পদ্ধতিগুলোর পাশাপাশি এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটর মেরামতের কাজও শিখতে পারবেন। এছাড়া নিজে সার্ভিসিং-এর ব্যবসা খুলে সাবলম্বীও হতে পারেন।

রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারের আয়:এন্ট্রি লেভেলে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গড় বেতন হতে পারে ১০-১৫ হাজার টাকা। অভিজ্ঞতা দক্ষতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান ভেদে এই অংক বাড়তে পারে।

রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা শেষে আপনি চাকরিক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন নাকি উচ্চ শিক্ষা অর্জন করবেন তা আপনার আগ্রহের উপর নির্ভর করে। আপনি যদি আরও পড়াশোনা করতে চান তবে বিএসসি করতে পারেন। অন্যথায় আপনি সহজেই এইচভিএসি ক্ষেত্রে যোগ দিতে পারেন।

তবে এই ব্যাপারে অভিজ্ঞদের পরামর্শ হল আপনার ডিপ্লোমা চলাকালীন অবকাশের সময় বেতন-প্রত্যাশা না করে যে কোন টেকনিশিয়ানের অ্যাসিসটেন্ট হিসাবে যোগদান করুন। এর মাধ্যমে আপনি ব্যবহারিক সমস্যাগুলো এবং তাদের সমাধানের ব্যাপারে জানবেন এবং আপনি প্রযুক্তিগতভাবে যথেষ্ট সাবলীল হয়ে উঠবেন। তথ্যসূত্র:ইন্টারনেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here