একজন ইঞ্জিনিয়ারের CV তৈরীর ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় জানা জরুরী

3
11535

ইঞ্জিনিয়ারের CV হল একটি পেশাদার ডকুমেন্ট যা ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার ভাল একটি পরিচয় তুলে ধরার প্রথম সুযোগ। আপনার সিভির উদ্দেশ্য হল চাকরির ইন্টারভিউতে একটি ভাল প্রভাব তৈরি করা। এবং এই উদ্দেশ্য সফল করার সর্বোত্তম উপায় হল এটি প্রমাণ করা যে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

মূলত, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে নিয়োগকারীরা সুদক্ষ প্রযুক্তিগত নৈপুণ্য, প্রাসঙ্গিক প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এবং ভাল ব্যক্তিত্বের অধিকারীকে দেখতে চান। এই ক্ষেত্রে অন্য সবার চাইতে আলাদা হতে চাইলে সম্ভাব্য নিয়োগকারীকে এটা বোঝাতে হবে যে তাদের স্বতন্ত্র কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পেতে যে সকল গুণাবলী দরকার আপনার তা আছে। কিভাবে একটি প্রফেশনাল Diploma Engineer CV তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে কিছু টিপস রইল আপনাদের জন্য।

যেভাবে Diploma Engineer CV সাজাবেন/ফরম্যাট: প্রতিবার আপনি যখন কোন একটি পোস্টের জন্য সিভি জমা দিবেন, তার আগে অবশ্যই সিভিটি আপনার আবেদনকৃত পদের সাথে মানিয়ে সাবধানতার সাথে কাস্টমাইজ করা উচিত। আপনাদের সুবিধার জন্য প্রফেশনাল সিভি তৈরির একটি ফরম্যাট বর্ণনাসহ নিচে দেয়া হল-

Name and Address (নাম ও ঠিকানা): সিভির একদম প্রথমেই থাকে ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের তথ্যের এই অংশটি। আপনার নাম লিখুন স্বতন্ত্র এবং স্পষ্ট করে। দরকার হলে বোল্ড করুন, বড় ফন্টে লিখুন অথবা Capital Letter দিয়ে আলাদা করুন। সঠিক ঠিকানা, ফোন নাম্বার এবং email address সারিবদ্ধ ভাবে লিখুন।

Objective (আপনার লক্ষ্য): ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার CV -র এই ধাপে সংক্ষেপে প্রকাশ করুন কিভাবে আপনি কাঙ্ক্ষিত পদে সুযোগ পেলে নিজের যোগ্যতা দ্বারা প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য উভয়কেই পূরণ করতে পারবেন। এই অংশ্তুকুর উদ্দেশ্য হল আপনার প্রতি নিয়োগকর্তার আগ্রহ বাড়িয়ে তোলা।

Educational Qualification (শিক্ষাগত যোগ্যতা): ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং, SSC এই ধারাবাহিকতায় প্রত্যেক পরীক্ষার পাশের সন, বোর্ড, পাশের বছর এবং ফলাফল বা জিপিএ সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দিন। কোন ফলাফল প্রকাশ না হয়ে থাকলে তা সেই পরীক্ষার পাশে ব্রাকেটে উল্লেখ করতে হবে। কোন পরীক্ষায় পাশ না করলে পরিক্ষার্থী উল্লেখ করুন।

License (লাইসেন্স): চাকরির সাথে সম্পর্কিত কোন লাইসেন্স থাকলে তবে তা বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে এখানে লিখুন।

Working experience (কাজের অভিজ্ঞতা): আপনার নিয়োগদাতা পদটির জন্য কি ধরনের লোক চান তা বুঝতে চেষ্টা করুন। তারপর এর সাথে প্রাসঙ্গিক সমস্ত কাজ, ইন্টার্নশিপ বা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম তালিকা আকারে এখানে লিখুন। লিখার সময় উল্লেখ করুন- সংস্থার নাম, পদের নাম, চাকরির সময়কাল, সম্ভব হলে সংক্ষেপে উল্লেখ করুন প্রতিটি সংস্থার জন্য আপনি কি কি প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন। আপনার দক্ষতার কারণে প্রকল্প কি ধরনের সফলতা পেয়েছিল।

Skill (দক্ষতা): কম্পিউটার এবং পেশাদার দক্ষতা সহ প্রাসঙ্গিক দক্ষতার তালিকা এখানে লিখুন যা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে অবদান রাখবে। টেকনিক্যাল জ্ঞানের পাশাপাশি একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যে সমস্ত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়োগকারী আপনার মধ্যে দেখতে চাইবে সেগুলো হল-

কম্যুনিকেশন, লিডারশিপ এবং টীমওয়ার্কের অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধান এবং অর্জিত তথ্য কাজে লাগানোর দক্ষতা। সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা।

Extra curriculum activities (পাঠক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম): শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে খেলাধুলা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবামূলক কার্যক্রম এবং অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করুন। এই ধরনের অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়, যার কারনে নিয়োগ দাতাদের কাছে এটা গুরত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কিত কোন স্বীকৃতি, সম্মান বা পুরষ্কার পেয়ে থাকলে উল্লেখ করুন। খুব ভাল হয় যদি এ ব্যাপারে লিখার সময় চাকরিটির সাথে সম্পর্কিত করে লিখা যায়।

Reference (রেফারেন্স):দ্বিতীয় কোন পক্ষের কাছ থেকে যাতে আপনার ব্যাপারে খোঁজ নেয়া যায়, রেফারেন্স সেই উদ্দেশ্যে দেয়া হয়। Diploma Engineer CV তৈরির সময় একটি পৃথক পৃষ্ঠায় রেফারেন্স তালিকাভুক্ত করুন এবং পয়েন্ট আকারে উল্লেখ করুন-

ব্যাক্তির নাম, কোন পদে কর্মরত আছেন, প্রতিষ্ঠানের নাম, অফিস বা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা। ফোন নাম্বার ও ইমেইল এড্রেস।রেফারেন্সের সংখ্যা ২/৩ এ সীমাবদ্ধ থাকাই ভাল। নাম উল্লেখ করার আগে প্রতিটি রেফারেন্স থেকে অনুমতি নিতে ভুলবেন না।

এছাড়া প্রয়োজন হলে শিক্ষাগত যোগ্যতায় যুক্ত করতে পারেন- Course work আপনি যদি বিশেষায়িত কোর্স করে থাকেন প্রথমেই তা উল্লেখ করুন। যদি এই ধরনের কোর্স/ অভিজ্ঞতার অভাব হয়, তবে উচ্চ স্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাসগুলির বর্ণনামূলক নামের তালিকা আপনার প্রশিক্ষণের ব্যাপারে ধারনা পেতে সাহায্য করবে।

প্রফেশনাল CV তৈরির ক্ষেত্রে যেসব ব্যাপারে ভুল করা যাবে না: Diploma Engineer CV সহ যে কোন CV-এর উপরে CV, Resume, Bio data এই কথাগুলো লিখার কোন দরকার নেই। সাধারণত সিভি ইংরেজিতে লিখা হয়। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, পুরো ডক্যুমেন্টটা যাতে স্ট্যান্ডার্ড ফন্টে লিখা হয়।মনোযোগ দিয়ে জব ডেসক্রিপশন পড়ুন। তারপরে এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার পজিশনের জন্য প্রয়োজনীয়গুলি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাগুলি হাইলাইট করে সিভি কাস্টমাইজ করুন।

পুরো সিভিটি যেন অবশ্যই জব অবজেক্টিভের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়। আপনার বৈবাহিক অবস্থান বা ধর্মের মতো অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য মূল্যবান স্থান নিয়ে নেয় তাই এগুলি বাদ দেয়া উত্তম। আপনার জন্ম তারিখ এবং বর্তমান, পূর্ববর্তী বা প্রত্যাশিত বেতনের বিশদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

প্রায়শই চাকরীর সন্ধানকারীরা প্রতিটি জবে এপ্লাই করতে একই সিভি ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রতিটি চাকরির জন্য আপনার সিভিটি আবেদনকৃত পদের চাহিদা এবং প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি বার মডিফাই করতে হবে।

আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সময়, আপনি কীভাবে আপনার দক্ষতা অর্জন করেছেন বা ব্যবহার করেছেন তার উদাহরণ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কেবল এলোমেলো দাবি করলে আপনার দাবি বিশ্বাসযোগ্য শোনাবে না।আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সফ্টওয়্যার সিস্টেম যেমন অটোক্যাড, সলিড ওয়ার্কস, ইনভেন্টর, কিউপি, অ্যালেন ব্র্যাডলি, সিমেন্স, সিএনসি, প্রোফিবাস-এ আপনার দক্ষতা ব্যপারে স্পষ্ট করে লিখুন।

পাসপোর্ট সাইজের ছবি স্টেপলার দ্বারা সিভির ডান পাশে উপরে সংযুক্ত করুন। ইঞ্জিনিয়ারিং সিভি লেখার কঠিন অংশটি হল প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা। আপনার অবশ্যই বিভিন্ন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে হবে এবং এমনভাবে হাইলাইট করতে হবে যাতে সম্ভাব্য নিয়োগকারীরা প্রভাবিত হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা লিখার সময় সাম্প্রতিক কালেরটি দিয়ে শুরু করুন। এভাবে বাকিগুলোও লিখুন বিপরীত ক্রমে। আমি বা আমার জাতীয় ব্যবহার না করে বুলেট ব্যবহার করে পয়েন্ট আকারে লিখুন। পরিষ্কার, সংক্ষিপ্ত এবং পেশাদার ভাষা ব্যবহার করুন। সৎ থাকার চেষ্টা করুন। মিথ্যা এড়িয়ে এবং সত্য গোপন না করে লিখুন।আগ্রহ বা শখের ক্ষেত্রে অসংলগ্ন তথ্য এড়িয়ে চলুন। সংক্ষেপে প্রাসঙ্গিক কথা লিখুন।নেতিবাচক তথ্য (চাকরিচ্যুতি) এড়িয়ে চলুন।

কোন ধরনের বানান বা ব্যাকরণগত ভুল নেই –এ ব্যাপারে ১০০% নিশ্চিত হন।আপনি যদি একজন ছাত্র হন, সেক্ষেত্রে আপনার সিভিটি এক পৃষ্ঠা হলে সবচেয়ে ভাল। তবে দুইপৃষ্ঠাও হতে পারে। এক্ষেত্রে স্থান বাঁচাতে পূর্ণ বাক্যের পরিবর্তে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন। নিশ্চিত করুন ডকুমেন্টটি পিসির পাশাপাশি কাগজেও ভালভাবে যেন দেখা যায়। জমা দেওয়ার আগে আপনার জীবনবৃত্তান্তটি কমপক্ষে একজন অভিজ্ঞর সাহায্য রিভিউ করুন।

3 COMMENTS

  1. পোস্টটি পড়ে আমার খুব কাজে লেগেছে এবং আমি বন্ধুদের কাছে শেয়ার করেছি তাদেরও অনেক উপকারে লেগেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here