প্রাইভেট জবে কোন ভবিষ্যত নেই, সরকারী চাকুরীই কি ভরসা ?

0
83

প্রথমেই আমরা জানতে চেষ্টা করব প্রভিডেন্ট ফান্ড কি? এটা হলো এমন একটি ফান্ড বা তহবিল যার কোষাগারে প্রতি মাসে আপনার বেতন হতে শতকরা ৫% করে টাকা কেটে রাখা হবে।যেমন আপনার বেতন যদি হয় ২০,০০০ টাকা তাহলে প্রতি মাসে আপনার সেলারি হতে ১০০০ টাকা করে কেটে আপনার তহবিলে জমা করা হবে।

প্রথমেই বলি সরকারী চাকুরীতে ভরসা বা ভবিষ্যত বলতে আপনি কি বুঝেন? ১। শেষ বয়সে এককালীন পেনশন। ২। চাকুরীর নিরাপত্তা।

এইতো নাকি? এই দুটো কি প্রাইভেট জবে নেই? চলুন দেখা যাক,যদিও সব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এক সমান নয় তবে দেশে এখনও কিছু স্বণামধন্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা তাঁদের কর্মীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রেখেছে কিছু নিজস্ব তহবিল। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে Provident fund, gratuity এবং অর্জিত ছুটির টাকা।

সেই ১০০০ টাকার সাথে কোম্পানি আরো ১০০০ টাকা যোগ করে ২০০০ টাকা আপনার জন্য রেখে দিবে। অর্থাৎ আপনি আপনার জমানো টাকার দ্বিগুণ ফেরত পাচ্ছেন।তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভেদে কিছু শর্ত থাকে যেমন নূন্যতম চাকরির বয়স ৫ বছর হতে হবে নতুবা সম্পূর্ণ টাকার অর্ধেক পাওয়া যাবে।

এবার আসি গ্র্যাচুইটি নিয়ে,আপনার চাকুরির বয়সসীমা যদি কোম্পানিভেদে ৫ থেকে ৭ বছর অতিক্রম করে থাকে তবে প্রতি বছর হিসেবে এক মাসের সর্বোচ্চ বা সর্বশেষ বেতনের মূল বেসিক আপনার গ্র্যাচুইটি ফান্ডে জমা হবে।এবার আসি অর্জিত ছুটি নিয়ে, আপনি যদি প্রতি বছর ১০ দিনের বেশি ছুটি না কাটিয়ে থাকেন।অর্থাৎ শুধুমাত্র C/L বাদে অন্য আর কোন ছুটি না কাটিয়ে থাকেন তবে আপনার অর্জিত ছুটির ফান্ডে ২০ দিনের হাজিরা জমা পড়বে যার বিপরীতে আপনি প্রতি বছর ২০ দিনের সর্বসাকুল্য বেতন পাবেন।

আপনার বর্তমান বেতন যদি ১৫০০০ বা তদোর্ধ হয় এবং প্রতি বছর আপনার বেতন ইনক্রিমেন্ট যদি গড়ে ২০০০ টাকা বা তার কাছাকাছি হয় এবং আপনি যদি ঠিকভাবে টাকাগুলি সঞ্চয় করতে পারেন তবে প্রাইভেট কোম্পানিতেও মাত্র ১০ বছর চাকরি করে আপনার তহবিলে ১০ লাখ টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব এবং সে মোতাবেক ২০ বা ২৫ বছর পর আপনি সসন্মানে চাকুরি হতে ইস্তফা নিতে পারলে আপনি অবশ্যই এককালীন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন।এর পাশাপাশি আপনি নিজে ও যদি ২ থেকে ৩ হাজার টাকার একটি ব্যাংক ডিপোজিট চালাতে পারেন তবে বাড়তি আরো ৬-৭ লাখ টাকা ১০ বছরে সঞ্চয় করতে পারবেন।

এবার চলুন দেখি কোন ধরনের প্রাইভেট কোম্পানি এসব সুবিধা দিয়ে থাকে।স্কয়ার গ্রুপঃ এ প্রতিষ্ঠানটি আমি যা বলেছি তাঁর চেয়ে আরো বেশি সুবিধা দিয়ে থাকে।বসুন্ধরা গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বম্বে সুইটস কোং লিঃ, নেসলে, একমি গ্রুপ, এসিআই, ডাবর, ইউনিলিভার, এসকে এফ ফার্মা, রেনাটা গ্রুপ, ব্র্যাক, ওয়ালটন, BSRM, মেঘনা গ্রুপ, রহিম আফরোজ সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।

তবে সমস্যা হলো এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট বৈষম্য কখনো কখনো সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যায়। তাই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হতে পড়াশুনা করা স্টুডেন্টদের জন্য এখন পর্যন্ত তেমন কোন সুসংবাদ থাকছে না।ভাল কোন সুসংবাদ পেলে অবশ্যই আপনাদেরকে জানাবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here