ইনডোর এসি সার্ভিসিং করার সঠিক নিয়ম

0
207

এসি সার্ভিসিং করা তেমন কোন জটিল এবং কঠিন বিষয় না। এসির দুইটা অংশ হয়ে থাকে ইনডোর এবং আউটডোর। এই দুইটা অংশ সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকলে এসি সার্ভিসিং করা সম্ভব। আমরা আগের আর্টিকেলে এসির আউটডোর সার্ভিসিং করার নিয়ম শিখেছি। আজ আমরা এসির ইনডোর সার্ভিসিং করার নিয়ম শিখবো। তবে ইনডোর এসি সাভির্সিং মাস্টার ক্লিনিং করার জন্য গ্যাস রিস্টোর করতে হয়।

যারা গ্যাস রিস্টোর ছাড়া এসি সার্ভিসিং করতে চান, তারা এসির সংযোগ সাকশান পাইব ও ডিসচার্জ লাইন পাইব খুলবেন না। এসি লাগানো অবস্থায় উপরের ব্লাওয়ার, ব্রাস দিয়ে যতটা সম্ভব ওয়াশ করবেন। তবে আমি আজ মাস্টার ক্লিনিং সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন ইনডোর এসি সার্ভিসিং করার নিয়ম সম্পর্কে জেনেনি।

ইনডোর এসি সার্ভিসিং: ইনডোর এসি সার্ভিসিং করতে হলে আপনাকে কয়েকটা ধাপে কাজ করতে হবে। যেমন- গ্যাস রিস্টোর, এসি ইনস্টলশন> আন-ইনস্টলশন, এসির ফিল্টার, ড্রেন ট্রে, কুলিং কন্ডেন্সার ওয়াশিং ইত্যাদি। তাহলে চলুন এই কয়েকটি ধাপে ইনডোর এসি সার্ভিসিং করে নতুন এসির মত কুলিং সিস্টেম চালু করে ফেলি। এসি সার্ভিসিং করতে হলে আপনাকে এসি সম্পর্কে বেসিক নলেজ রাখতে। যেমন- নিজের এসি হলে- সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। আর এই আটির্কেলটি সম্পূর্ণ পড়তে হবে। যেন আপনি এ অনুযায়ী কাজ করে আপনার এসিটি সার্ভিসিং করতে পারেন। তবে আমি ধারাবাহিক ভাবে প্রতিটা বিষয় আলোচনা করেছি পড়লেই বুঝে পারবেন।

এসির গ্যাস রিস্টোর করার নিয়ম: ইনডোর এসি মাস্টার ক্লিনিং করার জন্য আপনাকে অবশ্যই এসিটি আন-ইনস্টল করে খুলে নিচে নামাতে হবে, তার আগে মাস্টার ক্লিনিং করা সম্ভব নয়। আর এসি আন-ইনস্টল করতে হলে এসির গ্যাস রিস্টোর করতে হবে। যদি মনে করেন গ্যাসে রিস্টোর করবেন না। তাহলে আপনার এসি পরিপূর্ণ ভাবে ওয়াশিং বা ক্লিনিং করা সম্ভব হবেনা। অনেকেই কি করে.. এসি লাগানো অবস্থায় উপরের কাভার খুলো ফিল্টার নিজে নিজে ওয়াশ করে, কিন্তু ফিল্টার ওয়াশ করলেই এসি ক্লিনিং হয়না। এজন্য আপনাকে এসির গ্যাস রিস্টোর করে এসি আন-ইনস্টল করতে হবে। নিচে নামিয়ে লিকুইড দিয়ে ভালো করে পানি দিয়ে কুলিং কন্ডেনশার ধুয়ে পরিস্কার করতে হবে। কারণ এতে এত পরিমাণে ময়লা জমে থাকে দেখে মনে হবে ছেদলার আস্তরণ পড়ে আছে।

এসির গ্যাস রিস্টোর করতে হলে আপনাকে আউডোর এসির কাছে যেতে হবে। সেখানে দুইটি পাইব আছে, একটা হলো কোয়াটার বা চিকন পাইব যাকে বলে ডিসচাজ লাইন পাইব, আরেকটা হলো হাফ বা মোটা পাইব যাকে বলে চার্জিং লাইন পাইব। আপনাকে বড় পাইবে গেজ মিটার লাগিয়ে গ্যাস রিস্টোর করতে হবে। আর গ্যাস রিস্টোর চালু কম্প্রোসরে করতে হয়। মনে রাখবেন গ্যাস রিস্টোর হওয়ার সাথে সাথে অর্থাৎ গেজ মিটারের রিডিং 0 হওয়া মাত্রই কারেন্ট লাইন বন্ধ করে কম্প্রোসর অফ করে দিতে হবে। তারপর ইনডোর এসির কাছে গিয়ে কাজ শুরু করতে হবে।

ইনডোর এসি আন-ইনস্টলেশন: হাফ (সাকসান/চার্জিং) পাইব এবং কোয়াটার (ডিসচার্জ) পাইব লাইন খুলে এসির গ্যাস রিস্টোর করা হয়ে গেলে। ভিতরে আউটডোর এসির সাথে দুইটা কপার লাইন পাইব থাকে একটা হাফ আরেকটা কোয়াটার। সাথে পাওয়ার লাইন এবং আউটডোর এসির সাথে ইনডোর সার্কিট সংযোগ লাইন থাকে তা সঠিক ভাবে খুলে আলাদা করতে হবে। যখন ইনডোর এসি ক্লিনিং করা হয়ে যাবে তখন আবার নতুন ভাবে গ্যাস দিয়ে এসি চালু করতে হবে।

ইনডোর আউডোর এসি সংযোগ: ইনডোর এসি সার্ভিসিং করার জন্য প্রথমে এসির ভিতরের সংযোগ ‍গুলো সঠিক ভাবে আলাদা করতে হবে। যেমন- প্রথমে পাওয়ার লাইন, তারপর ড্রেনপাইব, তারপর আউটডোর সার্কিট লাইন, তারপর হাফ এবং কোয়াটার পাইব ভালো গ্রিপ, স্নাপার, ডাল, রেঞ্জ দিয়ে ভালো ভাবে সাবধানতার সাথে খুলে ইনডোর এসির সব সংযোগ আলাদা করতে হবে। যদি এসির পিসিবি বোর্ডের তার সংযোগ খোলার সময় সংযোগ মনে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে তার খোলার আগে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে একটা ভালো করে ছবি তুলে নিন। যেন সংযোগ তার গুলো লাগানের সময় ছবি দেখে দেখে লাগতে পারেন।

ইনডোর এসি ওয়াশিং করার নিয়ম: এসি পরিপূর্ণ ভাবে আন-ইনস্টল করার পর, উপরের কাভার, সুয়াইপিং মোটর, ড্রেন পাইব ট্রে, ফিল্টার, রিমোট সেন্সর সহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র সাবাধানতার সাথে খুলে আলাদা করতে হবে। তারপর এসির সাইডে থাকা মেইন পিসিবিকে ভালোভাবে পলিথিন দিয়ে জড়িয়ে টেপ করে দিতে হবে যেন পিসিবিতে কোন পানি না পড়ে। তারপর এসিটিকে খাড়া করে উপরে যেন পিসিবি থাকে এমন ভাবে এসির সিলভার ব্লোর/কুলিং কয়েল/কুলিং কনডেন্সার পানি দিয়ে হালকা করে ভিজিয়ে নিতে হবে। তারপর যেকোন একটা জীবানু নাকশ ক্লিনিং লিকুইড স্প্রে করে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। ক্লিনিং লিকুইড আপনি বাজারে কিনতে পাবেন। তার কিছুক্ষন পর পাইব লাইনের পানি দিয়ে পিসিবি বাদে বাকি সব জায়গা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

ধোয়ার পর এসি শুকানোর নিয়ম: এসি এমন ভাবে ধুয়ে নিতে হবে দেখতে যেন একদম চকচক করে চিত্রের মত লাগে। এজন্য আপনাকে বাজার থেকে ভালো মানের ক্লিনিং লিকুইড নিয়ে আসতে হবে। এভাবে পরিস্কার করার পর রোদে কিছুক্ষন ছবির মত করে রেখে ভালো করে শুকিয়ে নিতে তারপর যেগুলো খুলেছেন সেগুলো সেটিং করতে হবে।

ইনডোর এসি রি-ইনস্টলেশন: এসি রি-ইনস্টলেশন করার জন্য যেভাবে খুলেছেন ঠিক সেইভাবে ইনস্টল শুরু করতে হবে। প্রথমে ড্রেন পাইব ট্রে, তারপর সুউয়াইপিং মোটর, তারপর ফিল্টার, তারপর রিমোট সেন্সর, তারপর এসিটি যেখানে লাগনো ছিলো সেখানে নিয়ে ভালোভাবে আগের মত করে হুকে আটকে দিতে হবে। তারপর পাইব লাইন(হাফ ও কোয়াটার) লাগতে হবে তারপর ড্রেনপাইব, তারপর পাওয়ার, তারপর আউটডোর তার সংযোগ এভাবে স্টোপ বাই স্টেপ সব কানেকশন লাগাতে থাকতে হবে। এসি সার্ভিসিং করার পর যে সমস্যা টা হয়ে থাকে তাহলো গ্যাস পাইব লিকেজ হওয়া। এজন্য গ্যাস পাইব গুলো ভালোভাবে টাইট করতে হবে যেন কোন ভাবেই গ্যাস লিকেজ না হয়।

এসি ইনস্টলের পর গ্যাস পরিক্ষা করা: নতুন ভাবে সবকিছু ইনস্টল করার পর রিস্টোর কৃত গ্যাস- যেই গ্যাস ছেড়েছেন ঠিক সেই গ্যাস- যেমন R22, R410 ইত্যাদি হতে পারে যা আবার আবার 60 পিএসআই গ্যাস দিয়ে এসির পাওয়ার দিতে হবে। দিয়ে 15-20 মিনিট আপেক্ষা করে গ্যাস পরিক্ষা করে দেখতে হবে যে, এসির গ্যাস কমে গিয়েছে কি-না। যদি কমে যায় তাহলে বুঝবেন ইনডোর এসির সাকশান পাইব এবং ডিসচার্জ পাইব লিকেজ আছে। সেই লিকেজ ঠিক করে যতটুক গ্যাস কমেছে ততটুকু আবার পূরণ করে দিলে আপনার কাজ শেষ হবে। তবে আমার একটা কথা হলো এই আর্টিকেলে আপনি কতটা কাজ ‍বুঝলেন কতটা কাজ শিখলেন আমার হয়ত ধারণা নেই। তবে হয়ত আপনাদের বেসিক আইডিয়াটা আসবে আমি এসি সার্ভিসিং এর উপর ভিডিও পাবলিশ করবো, তখন হয়ত প্যাকটিকেল দেখে অনেক কিছু জানতে পারবেন। এজন্য কমেন্ট করে আপনাদের মতামত শেয়ার করুন।

নতুন এসি কোনটা ভালো: বাংলাদেশের এসি বলতে বাজারে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী কোম্পানির এসি পাওয়া যায় তার মধ্যে কোন এসি ভাল কয়েকটা ভালো ব্রান্ড হলো: এলজি এয়ার কন্ডিশনার, জেনারেল এসি, ডাইকিন এসি, প্যানাসনিক এয়ার কন্ডিশনার, ক্যারিয়ার এসি, ওয়ালটন এয়ার কন্ডিশনার, গ্লোব এর এসি, গ্রি এয়ার কন্ডিশনার। এই কোম্পানি গুলোর এসি ওয়োরেন্টি কালিন সময়ে সার্ভিসং ফ্রিতে পেয়ে যাবেন। তবে আপনাকে এসি সার্ভিস করার জন্য টেকনিশিয়ান কে ছোট খাটো ব্যাপারে ১,০০০-৩,০০০/- পর্যন্ত টাকা দিতে হতে পারে। আপনি যদি নিজেই এসি সার্ভিসিং শিখে নিতে পারেন তাহলে নিজের এসি নিজে সার্ভিসিং করতে পারবেন এবং সাথে অন্যের এসি সার্ভিসিং করে নিজের জন্য আয় করতে পারবেন।

এসি সার্ভিসিং রেট: আপনার যদি একটাও এসি থাকে তাহলে মাঝে মাঝে কি পরিমাণ টাকা খরচ করতে হতে পারে হয়ত আপনার জানা নেই। আর এসি সার্ভিসিং শিখে কি পরিমাণে আয় করা যায় সেটাও হয়ত আপনার জানা নেই। যারা সার্ভিসি শিখছেন তাদের হয়তা জানা আছে। এজন্য আমি একটা সার্ভিসিং খরচ চাট নিয়ে এসেছি যা এক ঝলক দেখে নিতে পারেন তবে বাজার দর থেকে কিছুটা কমবেশি হতে পারে। আপনি নিজে আয় করার জন্য অথবা ক্যারিয়ার গঠনের জন্য এসি সার্ভিসিং শিখে এগিয়ে যেতে পারেন। যার ফিউচারে এর অনেক ভালো স্কোপ রয়েছে।

এসি সার্ভিসিং টেকনেশিয়ান এর মিনিমাম ফি = ৫০০ টাকা।

এছাড়াও উইন্ডো এসি সার্ভিসিং ফি = ৭০০ টাকা।

(১ টন) এসি গ্যাস রিফিল ১০০০-১৩০০ টাকা (R-22)

(১.৫ টন) এসি গ্যাস রিফিল ২৫০০-৩৫০০ টাকা (R-22)

(১-১.৫ টন) এসি গ্যাস রিফিল ৩৫০০-৪৫০০ টাকা (R-410A)

আউটডোর ইনডোর এসি মাস্টার ক্লিনিং করা ৩০০০ টাকা।

টোটাল এসি ফিটিং বারান্দা ২০০০ টাকা।

দেওয়ালে ঝোলানো এসি ফিটিং ২৫০০ টাকা।

যেকোন এসি খোলা ১০০০ টাকা।

অন্যান্য গ্যাস রিফিল ফি আলাদা রয়েছে।

ইনডোর এসি সার্ভিসিং সম্পর্কে কোন বিষয় জানার থাকলে নিচে আমাকে কমেন্ট করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here