যদি হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হয় তবে যা করবেন

0
209

বর্তমানে আমাদের ঘরোয়া টেকনোলজির মধ্যে ফ্রিজ অন্যতম ফ্রিজের সমস্যা ও সমাধান জানা। আমাদের নিত্যদিনের বেশি ব্যবহৃত একটি ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির সমন্বয় হলো ফ্রিজ। আমরা ফ্রিজ ব্যবহার করি বিভিন্ন ধরনের খাবার সংরক্ষণের জন্য। ফ্রিজের মাধ্যমে আমরা নানান খাবার পণ্য অনেক দিন সংরক্ষন করতে পারি। যেমন- মাছ-মাংস, শাক-সব্জি ইত্যাদি কাচাঁ খাবার সংরক্ষণ করে বহুদিন রেখে তা খেতে পারি। এজন্য বলা যায় পারিবারিক বসবাসে ফ্রিজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

আমরা প্রায় সবাই চাই আমাদের বাসায় একটা ফ্রিজ থাকুক, কারণ ঘরোয়া খাবার সংরক্ষনের জন্য ফ্রিজের বিকল্প আর কোন টেকনোলজি আমাদের জন্য সহজ লভ্য নয়। তাই আমাদের এই সার্ভিসিং টেকনোলজির একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরি হলো ফ্রিজ এবং এসি। ফ্রিজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এই ক্যাটাগরিতে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হবে। আজকের প্রথম আর্টিক্যালে আমরা ফ্রিজের একটা কমন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো। তাহলো হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হলে কি করবেন।

হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হলে কি করবেন: ফ্রিজে আমরা বিভিন্ন ধরনের কাঁচা খাবার সংরক্ষণ করে থাকি। সুতরাং হঠাৎ যদি সেই খাবার সংরক্ষনের ফ্রিজটি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাদেরকে অনেক সমস্যার সমুখ্খীন হতে হয়। আর যদি সেই বন্ধ ফ্রিজটি তাড়াতাড়ি করে চালু না করা যায়। তাহলে আমারদের সংরক্ষিত কাঁচা খাবার গুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।এজন্য ফ্রিজ বন্ধ হলে তাৎক্ষনিক কি করতে পারেন সে বিষয় গুলো জেনেনি।

প্রয়োজনীয় সার্ভিসিং টুলস্ সমূহ:

নাট খোলার জন্য একটা স্টার স্ক্রু ড্রাইভার।

কারেন্ট চেক করার জন্য একটা এসি কারেন্ট টেস্টার।

বিভিন্ন চেক করার জন্য একটা মাল্টিমিটার।

হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হলে করণীয়: হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হলে নিচের কিছু ধাপ অনুসারে পরিক্ষা করে কাজ করতে থাকুন: প্রথম ধাপ- সবার আগে ফ্রিজের সমস্যা ও সমাধান জানতে আপনি আপনার ফ্রিজের এসি কম্মাইন বক্স চেক করুন। একটা মাল্টিমিটার অথবা টেস্টারের সাহায্যে ফ্রিজের পাওয়ার সংযোগের কম্মাইন বক্স চেক করুন। কম্মাইন বক্স হলো যেখানে ফ্রিজের এসি প্লাগ লাগানো থাকে সেই সুইচ বক্স। যেখানে একটা ফিউজ থাকে এবং একটা ইন্ডিকেটর থাকে, ফিউজ অনেক সময় কেটে যায় ফলে ফ্রিজে এসি বা কারেন্ট সাপ্লাই হয়না, ফলে ফ্রিজ অন হয়না। কম্মাইন বক্সের ফিউজটি অতি সাবধানতার সাথে খুলে পরিক্ষা করে নিতে হবে। যদি ফিউজ সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকে তাহলে এখানে ক্লিক করুন। তারপর দেখতে হবে কারেন্ট সাপ্লাই ঠিকমত পাচ্ছে কি-না।

দ্বিতীয় ধাপ- অনেকের ফ্রিজে ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার ব্যবহার করা হয়। ফলে অনেক সময় দেখা যায় ভোল্টেজ স্টাবিলাইজারের কারণে ফ্রিজ অন হয়না অর্থাৎ ভোল্টেজ স্টাবিলাইজারে সমস্যা থাকতে পারে। হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হয়ে গেলে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার থেকে ফ্রিজের তার খুলে সরাসরি এসি কম্মাইন বক্সে প্লাগিন করতে হবে।

যদি স্টাবিলাইজারের সমস্যা থাকে তাহলে সাথে সাথে ফ্রিজ অন হয়ে যাবে। (ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার সম্পর্কে অন্য একটা আর্টিক্যালে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হবে) আর যদি ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার ঠিক থাকার পরেও ফ্রিজ চালু না হয় তাহলে তৃতীয় ধাপে কাজ করতে হবে। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজারে ডিলে অপশন থাকে।

ডিলে অপশন এর কাজ হলো ফ্রিজে কিছুক্ষন পরে কারেন্ট সাপ্লাই করা। তাই ভোল্টেজ স্টাবিলাইজারের মাধ্যমে ফ্রিজ অন করলে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে, যেমন ১-৫ মিনিট হতে পারে তা ডিলে অপশনের সেটিং এর উপর নির্ভর করবে যে কতক্ষন পর ফ্রিজ অন হবে।

তৃতীয় ধাপ- ফ্রিজের কম্মাইন বক্সের সব কিছু ঠিক আছে, ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার ঠিক আছে, তার পরেও যদি ফ্রিজ অন না হয়, তাহলে আপনাকে ফ্রিজের পেছনের কম্পোসারের কাভার থাকলে সাবধানতার সাথে খুলে নিতে হবে। ভয়ের কোন কারণ নেই তবে কারেন্ট সম্পর্কে বেসিক নলেজ থাকতে হবে। কারেন্ট সম্পর্কে বেসিক নলেজ না থাকলে আপনার দ্বারা উক্ত পরিক্ষা করা সম্ভব নয়।

ফ্রিজের কাভার খোলার পরে আপনি ফ্রিজের কম্পোসার দেখতে পাবেন। যার সাথে একটা রিলে লাগানো আছে তবে নতুন মডেলের ফ্রিজে রিলের সাথে ক্যাপাসিটর থাকে। যাই হোক ক্যাপসিটর নিয়ে পরে আলোচনা করবো। কম্পোসারের সাথে লাগনো রিলেটি টেনে খুলে ফেলুন। রিলে কম্পোসারের সাথে তিনটা কানেশন থাকে অপর সাইডে এসির দুইটা সংযোগ থাকে।

চতুর্থ ধাপ- রিলে খুলে ফেলার পর আপনি রিলেটিকে ঝাকুনি দিয়ে দেখবেন রিলের ভিতর থেকে ঝন ঝন আওয়াজ আসছে কি-না। যদি ঝন ঝন আওয়াজ আসে তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফ্রিজের রিলেটি কেটে/পুড়ে গিয়েছে। আর যদি রিলে ঠিক থাকে তাহলে আপনাকে আগে রিলে পর্যন্ত কারেন্ট আসার কর্টটি মিটারের কনটিউনিটি সিলেক্ট করে কর্টের দুইটা তার পরিক্ষা করে নিতে হবে।

কারণ অনেক সময় পাওয়ার কর্টের তার ভিতরে পুড়ে থাকে। যদি দুইটা তার ঠিক থাকে তাহলে রিলে পরিক্ষা করতে হবে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রিলের সমস্যা হয়ে থাকে যেটা পরিবর্তন করলে ফ্রিজ ঠিক হয়ে যায়। বাজারে রিলের দাম বেশি না দরকার হলে একটা নতুন রিলে কিনে পরিবর্তন করে দেখতে হবে।

ফ্রিজের রিলে কি? রিলে হলো একটা ইলেকট্রিক সুইচ যেটা কারেন্ট প্রবাহ করলে কম্পোসরের তিনটা পিন স্টাটিং-রানিং-কমন এর মধ্যে স্টাটিং ও রানিংকে সুইচিং করে কম্পোসরকে অন করে দেওয়াই রিলের কাজ। রিলে সুইচিং এর মাধ্যমে ফ্রিজের কম্পোসর অন করে থাকে। ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজিতে রিলের অনেক ব্যবহার রয়েছে। রিলে নিয়ে বিস্তারিত একটা আর্টিক্যাল থাকবে।

পঞ্চম ধাপ- রিলে ছাড়া ফ্রিজ অন করে বুঝে নিতে পারেন আপনার ফ্রিজের রিলে সমস্যা আছে কি-না? আপনি যদি মনে করেন রিলে ছাড়া ফ্রিজ অন করবেন তাহলে রিলে খুলে ফেলুন। তারপর রিলের সাথে লাগালে এসি কর্ট এর নিউটল এবং ফেজ তার কম্পোসরের কমনের সাথে একটা আর রানিং এর সাথে একটা সংযোগ ভালোভাবে দিয়ে স্টাটিং ও রানিং কে টেস্টার দিয়ে একসাথে টার্চ করলেই আপনার ফ্রিজের কম্পোসর চালু হয়ে যাবে। তবে অনেক রিস্ক আছে আপনার যদি কারেন্ট সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকে তাহলে এটা দক্ষতা ছাড়া সবার দ্বারা করা সম্ভব নয়।

আপনাদের যে পাঁচটা ধাপে কাজ করতে বললাম তা সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তবে যেগুলো বাইরের কাজ সেগুলো সবাই করতে পারেন। এগুলো করার আগে অবশ্যই কারেন্ট সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। নতুবা কারেন্ট শক্ খাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

তবে যারা প্রফেশনাল ফ্রিজের মেকার হতে চান তাদের এগুলো করতেই হবে সুতরাং সাবধানতার সাথে প্যাকটিস করতে থাকুন। ফ্রিজের সমস্যা সমাধান করা তেমন কোন জটিল বিষয় নয়। তার পরেও ফ্রিজের সমস্যা সমূহ আমাদের অজানা বিষয় এজন্য অনেক টাকার খরচে পড়তে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here