আয়কর রিটার্ন দাখিলে সম্পর্কে যা জানতে হবে

0
127

ব্যক্তিপর্যায়ের আয়কর দাখিলের বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তুতি নিতে জেনে নিন এপ্রসঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আয়কর রিটার্ন কি? আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট একজন করদাতার বার্ষিক আয়ের তথ্যাবলী নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপন করার মাধ্যম হচ্ছে আয়কর রিটার্ন । আয়কর রিটার্ন ফরম এর কাঠামো আয়কর বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট করা আছে। আয়কর আইন অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

আয়কর রিটার্ন কারা দাখিল করবেন? আপনার মন্র প্রশ্ন আসতে পারে সবাইকে কি আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে? উত্তর হল, না। সাধারণভাবে, কোন ব্যক্তি-করদাতার (individual) আয় যদি বছরে ২,৫০,০০০/- টাকার বেশি হয় তবে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে ৩,০০,০০০/- টাকার বেশি,

প্রতিবন্ধী করদাতার আয় যদি বছরে ৪,০০,০০০/- টাকার বেশি এবং গেজেটভূক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে ৪,২৫,০০০/- টাকার বেশি হয় তাহলে ঐ করদাতাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে আয়ের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তি-করদাতাকে সংশ্লিষ্ট আয় বছরের জন্য আবশ্যিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে:

(ক) যদি আয় বছরে করদাতার মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে;

(খ) আয় বছরের পূর্ববর্তী তিন বছরের যে কোন বছর করদাতার কর নির্ধারণ হয়ে থাকে বা তার আয় করযোগ্য হয়ে থাকে;

(গ) করদাতা যদি-

(১) কোন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার employee হন;

(২) কোন ফার্মের অংশীদার হন;

(৩) সরকার অথবা সরকারের কোন কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের বা প্রচলিত কোন আইন, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কোন কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের কর্মচারী (employee) হয়ে আয় বছরের যে কোন সময় ১৬,০০০/- টাকা বা তদুর্ধ্ব পরিমাণ মূল বেতন আহরণ করে থাকেন;

(৪) কোন ব্যবসায় বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে (যে নামেই অভিহিত হোক না কেন) বেতনভোগী কর্মী (employee) হন;

(ঘ) আয় বছরে করদাতার আয় কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য হয়ে থাকে;

(ঙ) যদি আয় বছরের কোন এক সময়ে নিম্নবর্ণিত শর্তের যে কোনটি করদাতার জন প্রযোজ্য হয়-

(১) মোটর গাড়ির মালিকানা থাকা (মোটর গাড়ি বলতে জীপ বা মাইক্রোবাসকেও বুঝাবে);

(২) মূল্য সংযোজন কর আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন ক্লাবের সদস্যপদ থাকা;

(৩) কোন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোন ব্যবসা বা পেশা পরিচালনা;

(৪) চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোন স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধন থাকা;

(৫) আয়কর পেশাজীবী (income tax practitioner) হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিবন্ধন থাকা;

(৬) কোন বণিক বা শিল্প বিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্যপদ থাকা;

(৭) কোন পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কোন পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া;

(৮) কোন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা কোন স্থানীয় সরকারের কোন টেন্ডারে অংশগ্রহণ করা;

(৯) কোন কোম্পানির বা কোন গ্রুপ অব কোম্পানিজের পরিচালনা পর্ষদে থাকা।

রিটার্ন ফরম কোথায় পাওয়া যায়? সকল আয়কর অফিসে আয়কর রিটার্ন ফরম পাওয়া যায়। একজন করদাতা সারা বছর বিনামূল্যে আয়কর অফিস থেকে রিটার্ন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েব সাইট www.nbr.gov.bd থেকেও রিটার্ন ফরম download করা যাবে। রিটার্নের ফটোকপিও গ্রহণযোগ্য।

রিটার্ন দাখিলের সময়? ব্যক্তি-করদাতাকে Tax Day (কর দিবস) এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। ২০১৭-১৮ কর বছরের জন্য ৩০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ হচ্ছে কর দিবস অর্থাৎ রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ। একজন ব্যক্তি-করদাতা ১ জুলাই ২০১৭ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখের মধ্যে ২০১৭-২০১৮ কর বছরের রিটার্ন দাখিল করবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব না হলে করদাতা রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য বিধি নির্ধারিত ফরমে উপযুক্ত কারণ উল্লেখপূর্বক উপ কর কমিশনারের কাছে সময়ের আবেদন করতে পারেন। সময় মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে সাধারণ অথবা সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতির আওতায় রিটার্ন দাখিল করা যাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট www.nbr.gov.bd থেকে সময় বৃদ্ধির আবেদন ফরম download করা যায়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করা হলে উপ কর কমিশনার বিলম্ব সুদ (delay interest) আরোপ করবেন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা করদাতার জন্য সুবিধাজনক।

রিটার্ন কোথায় দাখিল করতে হয়? প্রত্যেক শ্রেণির করদাতার রিটার্ন দাখিলের জন্য আয়কর সার্কেল নির্দিষ্ট করা আছে। যেমন, ঢাকা সিভিল জেলায় অবস্থিত যে সকল বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী ও পেনশনভুক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীর নাম A, B এবং C অক্ষরগুলো দিয়ে শুরু হয়েছে তাদেরকে কর অঞ্চল-৪, ঢাকা এর কর সার্কেল-৭১ এ রিটার্ন জমা দিতে হবে। পুরোনো করদাতাগণ তাদের বর্তমান সার্কেলে রিটার্ন জমা দেবেন।

নতুন করদাতাগণ তাদের নাম, চাকুরীস্থল বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানার ভিত্তিতে নির্ধারিত সার্কেলে ১২-ডিজিট টিআিইএন (e-TIN) উল্লেখ করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন। করদাতাগণ প্রয়োজনে নিকটস্থ আয়কর অফিস বা কর পরামর্শ কেন্দ্র থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত তথ্য জেনে নিতে পারেন। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুন্ঠেয় আয়কর মেলায় করদাতাগণ আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।

রিটার্ন দাখিলের সময় যদি দেশের বাইরে থাকেন? রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতা বিদেশে অবস্থান করলে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও রিটার্ন দাখিল করা যায়। কোন সরকারী কর্মকর্তা প্রেষণে বা ছুটিতে বিদেশে উচ্চ শিক্ষারত বা প্রশিক্ষণরত থাকলে বা লিয়েনে বাংলাদেশের বাইরে কর্মরত থাকলে উক্ত প্রেষণ বা লিয়েন সমাপ্তিতে দেশে আসার তিন মাসের মধ্যে তার প্রেষণ বা লিয়েনকালীন সময়ের সকল রিটার্ন দাখিল করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here