রাডারের সম্পর্কে আলোচনা পর্ব: ০৩

0
48

চলুন শুরু করা যাক রাডারের ৩য় পর্ব। গত দুই পর্বের আলোচনার মাধ্যমে রাডারের মূল বিষয়বস্তু অনেকটাই আপনাদের কাছে ক্লিয়ার হয়েছে বলে আশা করছি। যারা যারা গত দুই পর্ব মিস করেছেন অনুরোধ করব সেগুলো আগে পড়ে নিন। না হলে এই পর্বের মজাটাই পাবেন না। আজকের পর্বে আপনাদের সাথে টার্গেট ট্র‍্যাকিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করব।

ট্র‍্যাকিং সিস্টেম :

এন্টেনা ট্র‍্যাকিং সিস্টেম দুই ধরনের হয়। যথা :

১) Lobe switching tracking system

২) Tracking system by conical scanning

নাম গুলো শুনে উদ্ভট লাগতে পারে। কিন্তু ব্যাপারগুলো অনেক সরল & চমৎকার। চলুন প্রথমটির ব্যাখ্যা জানব।

১) Lobe switching tracking system :

” Lobe ” কথাটি দিয়ে এখানে মূলত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড এর বিস্তৃতি বোঝানো হচ্ছে। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের বিস্তৃতির মাধ্যমেও বুঝা যায় টার্গেট কতদূরে আছে আর কি অবস্থায় আছে?

এক্ষেত্রে দুটি বিশালআকৃতির প্যারাবোলিক এন্টেনা ব্যবহার করা হয়। যারা প্রতিনিয়ত টার্গেট বরাবর সিগন্যাল রেডিয়েট করে। তারপর সেই সিগন্যাল response রিসিভ করে কন্ট্রোল টাওয়ার এর অপারেটরদের টার্গেট এর বর্তমান অবস্থা জানান দেয়। টার্গেট এর অবস্থানের উপর এন্টেনা দুটোর রেসপন্স তথা ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক লোবের প্রকৃতি নির্ভর করবে। সেটা কি রকম?

ধরেন, টার্গেট দুটো এন্টেনা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। এক্ষেতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড এর strength খুব ই কম হবে। আর যদি প্রথম এন্টেনার কাছাকাছি কিন্তু ২য় এন্টেনা থেকে দূরে তখন প্রথম এন্টেনা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড বেশি consume করবে। আবার যদি টার্গেট দুই এন্টেনার মাঝামাঝি থাকে তখন দুটি এন্টেনার ই ফিল্ড এনার্জি চরম হবে।

ব্যাপার টা অনেকের কাছে একটু ঝাপসা লাগতে পারে। উদাহরণ দিলে ভাল হবে। কোন এম্বুল্যান্স সাইরেন বাজিয়ে অনেক দূর থেকে আপনার কাছে আসতেছে। এখন প্রথম দিকে আপনার যে কোন একটি কান ভাল শুনবে। কিন্তু যখন আপনার মাঝ বরাবর আসবে দুটো কান ই ফেটে যাবে। ব্যাপারটা এখানেও কিন্তু এরকমই আশা করি বুঝাতে পেরেছি।

২) Conical Scanning :

এই ধরনের ট্র‍্যাকিং খুব বিরল। কেবল মাত্র একটি এন্টেনা দিয়েই কাজ চালানো হয়। এন্টেনাটি হয় আইসোট্রপিক টাইপের। আইসোট্রপিক এন্টেনা কী সেটা আগের পর্বেই উল্লেখ করেছি। এই এন্টেনাটি ৩৬০ ডিগ্রী কোণে চারদিকে ঘুরিয়ে প্রতি ৫-১০ ডিগ্রী অন্তর ফিল্ড স্ক্যানিং করে টার্গেট এর অবস্থান জানা হয়।

Conical Flask এর মৌখিক অবয়বের সাথে এর স্ক্যানিং প্যাটার্ন এর মিলকরণ করে নাম হয়ে গেছে conical scanning ধরুন, আপনি ফ্লাইং অফিসার কে বিমান নিয়ে আকাশ যুদ্ধে পাঠালেন। তখন তিনি কোনদিকে যাচ্ছেন, কয়টা মিসাইল কোন দিকে কিভাবে ছূড়লেন সেসব ও অতি সহজেই মনিটর করা যাবে। এ ব্যাপারগুলো আরো ক্লিয়ার হবে যখন মনিটরিং সিস্টেম নিয়ে গল্প হবে।

# এন্টেনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য কিভাবে radio operator এর কাছে উপস্থাপিত হয় সেটা জানব।

Monitoring system দুই ধরনের :

1) A scope monitoring system :

2) Monitoring by Plane Position Indicator

A Scope :

এই সিস্টেমে রিসিভার এর গ্রহণ করা যাবতীয় তথ্য oscilloscope এর সাহায্যে মনিটরিং করা হয়। রাডার সিস্টেম এর রিসিভারের সাথে এই oscilloscope connected থাকে। আর oscilloscope এর মাধ্যমে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস এর amplitude, phase shift, fluctuations ইত্যাদি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করে বুঝা যায় রাডার টি কত দূরে থাকতে পারে।

টার্গেট যত দূরে যাবে ফিল্ড ততই দুর্বল হতে থাকবে। আর যত কাছাকাছি থাকবে amplitude তত sharpe & high হবে। তবে এই সিস্টেম টি বর্তমানে অপ্রতুল। এটার মাধ্যমে টার্গেট কোন দিকে কত অক্ষাংশ এ আছে এ যাবতীয় তথ্যাদি পাওয়া যায়না। তাই Plane Position Indicator এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়।

Plane Position Indicator :

Plane Position indicator এর আউটপুট oscilloscope এর মত নয়। এটি তার যাবতীয় তথ্য circular pattern এ দেখাবে। এর মাধ্যমে দিক, অক্ষাংশ, গতির প্রকৃতি ইত্যাদি তথ্য সঠিকভাবেই পাওয়া সম্ভব। এই PPI এর display তে একটি বৃত্ত থাকে। এই বৃত্তে অবস্থিত indicator এর মাধ্যমেই আমরা কৌণিক অবস্থান, দিক জানতে পারি।

আর এই indicator যদি খুব swiftly move করে তখন আমাকে বুঝতে হবে টার্গেট খুব দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। আগামী পর্বে আমরা Blind speed, Doppler effect, রাডার কে ফাকি দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here