রাডারের সম্পর্কে আলোচনা পর্ব: ২

0
46

চলে আসলাম রাডারের ২য় পর্ব নিয়ে বকবক করতে। আজকের পর্বটি বেশ চমকপ্রদ। একবার পড়লে বারবার পড়তে ইচ্ছে করবে 😀 যাই হোক কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় আসা যাক।

গত পর্বে আমি রাডার সাহেবের পরিচিতি টা স্পষ্ট করেছি। এই পর্বে তার action, antenna type নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। প্রথমে আমি তার action অর্থাৎ কিভাবে কাজ করে সেটা নিয়ে আলোচনা করব।

কার্যপ্রণালী: জটিলতা পরিহার করে খুব সহজ এ বলতে গেলে, রাডার প্রতিধ্বনি প্রক্রিয়ায় কাজ করে। সেটা কিভাবে? আমরা সকলেই ছোটবেলায় অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই তে বাদুড়ের পথ চলার গল্প টি পড়েছি। বাদুড় মামা চোখে না দেখায় সে বিশাল কম্পাঙ্কের শব্দ সৃষ্টি করে।

আর সেই শব্দ যদি প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে তাহলে সে বুঝে নিবে তার সামনে কোন বড় বাধা আছে। এজন্য ই বেচারা মাঝে মাঝে বৈদ্যুতিক খুটির তারে ঝুলে থাকে। কারণ, খুটির সরু তারের উপর শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়না। ঠিক রাডার ও বাদুড় মামার স্টাইলে একটি বস্তুর উপস্থিতি, গতি বুঝতে পারে।

ধরুণ, আপনি কোন একটি জাহাজের অবস্থান জানতে চাচ্ছেন। এখন কিভাবে সেটা সম্ভব?

রাডার সিস্টেমে ব্যবহৃত এন্টেনার মাধ্যমে radio / microwave ট্রান্সমিট করা হয় যাদের কম্পাংক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেক্ট্রাম অনুসারে Radio (87-108 MHz) & Microwave (0.3 – 300 GHz) পর্যন্ত হয়। সাধারণত local oscillator, Modulator & RF mixer এর সহায়তায় এই radio wave generate করা হয়। এই তরঙ্গ টার্গেট এর উপর পতিত হয়ে পুনরায় প্রতিধ্বনিত হয়ে রাডার এর এন্টেনায় ফিরে আসে। এন্টেনা সেটা রিসিভ করে। তারপর সেটার অবস্থান সম্পর্কে operator রা সম্যক ধারণা লাভ করে।

অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যাচ্ছে রাডার এ ট্রান্সমিশন & রিসিভিং দুটো কাজ ই একসাথে করতে হয়। আর এই কাজটি করে Duplexer। যে একসাথে transmitter & receiver হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ সে তথ্য এন্টেনা কে দিতেও পারে আবার নিতেও পারে। এভাবে ship, aircraft navigation এ রাডার সাহায্য করে। শুধু তাই নয়। ঘূর্ণিঝড় কত দূরে অবস্থান করছে সেটাও এই পদ্ধতিতেই জানা যায়।

রাডারে কি ধরনের এন্টেনা ব্যবহার করা হয়?

সাধারণত রাডারে আইসোট্রপিক টাইপ এন্টেনাগুলো বেশি ব্যবহার করা হয়। আইসোট্রপিক বলতে বোঝায় যে এন্টেনা ৩৬০ ডিগ্রী কোণে চতুর্দিকে ঘুরে টার্গেট স্ক্যানিং করতে পারে। এতে নিশানা করা সহজ হয়ে পড়ে। প্যারাবোলিক, হ্যালিকেল এন্টেনা গুলা রাডার সিস্টেমে ব্যবহৃত হয় বেশি। আর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রা অনেক ক্ষেত্রে isotropic dommed type antenna ব্যবহার করে থাকেন।

প্যারাবোলিক এন্টেনার একটি বিশেষত্ব আছে। টর্চ লাইট নিশ্চয়ই আমরা কম বেশি সবাই ব্যবহার করেছি। টর্চ লাইট এর রিফ্লেক্টর যেমন তার চারপাশে ছিটকে পড়া আলোকে প্রতিফলিত করে পুরো আলো টার্গেটের উপর concentrate করে তেমনি প্যারাবোলিক এন্টেনার রিফ্লেক্টর ও তার সিগন্যাল কে টার্গেট এর উপর fully concentrate করতে পারে।

আর হ্যালিকেল টাইপ এন্টেনা গুলো উর্ধমূখী y axis বরাবর সিগন্যাল প্রেরণ করে তার টার্গেট স্ক্যানিং করতে পারে। সাধারণত উড়োজাহাজ, স্পেস শিপ কে মনিটরিং করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

আজ আর নয়। আগামী পর্বে আরো চমকপ্রদ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে ৪-৫ টি পর্ব করা হবে। কারণ বিষয়টি সত্যিই অনেক মজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here