ইঞ্জিনিয়ার উৎপল দের জীবনের সফলতার গল্প

0
117

ছোটো বেলা থেকেই ইচ্ছে ছিলো একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হবো। এস এস সি ২০১৩ মাদারিপুর টেকনিক্যাল স্কুর এন্ড কলেজের ফার্ম-মেশিনারি ডিপার্টমেন্ট থেকে জপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হই। পরিবারে তেমন কোনো ডিসিশন মেকার ছিলো না বিশেষ করে আমার পড়াশোনার ব্যাপারে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো ছিলোনা। তখন ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতো সরকারি কোনো ইনস্টিটিউটে ভর্তিতে চান্স পাওয়ার জন্য। তখন রিতিমত টেনশনে পরে যাই মানুষের কথা শুনে যে সরকারি ইনিস্টিউটে চান্স পেতে হলে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয় এবং যদিও চান্স হয় তাহলে সিভিলে নাও হতে পারে।

কিন্তু আমার ইচ্ছা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হবো । বাবার কাছে জিজ্ঞেস করলে বলে, তোমার যেটা ভালো মনে হয় তুমি সেটাই করো। এতে রিতিমত আরো বেশি টেনশনে পরে যাই কারন প্রাইভেট ইনিস্টিউটে পরতে গেলে প্রচুর টাকার দরকার এতো টাকা যদি পরিবার থেকে সাপোর্ট দিতে না পারে তখন পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। সাথে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছেটাও অপূর্ণ থেকে যাবে।
এর পর অনেক ভাবনা চিন্তা করে স্থির করলাম প্রাইভেট ইনিস্টিউটেই সিভিলে ভর্তি হবো এবং টিউশনি করিয়ে ইনিস্টিউটের খরচ জোগাবো এবং নিজের খরচও চালাবো।

অবশেষে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় প্রাইভেট ইনিস্টিউটের সিভিল ডিপার্টমেন্টেই ভর্তি হলাম। রিতিমত ক্লাস শুরু হলো। এর পর অনেক কষ্ট করে ৫ টা টিউশন ম্যানেজ করলাম, শুরু হরো জীবন যুদ্ধ। সকাল ৭:৩০ মি থেকে ৯:৩০ পর্যন্ত দুইটা টিউশন শেষ করে কলেজে যেতাম।

সেখান থেকে দুপুর ১ টায় ক্লাস শেষ করে বাসায় আসতাম। বাসায় এসে রান্না করে খাওয়া শেষ করে বিকেল ৩ টায় বের হযে যেতাম টিউশনি করানোর জন্য। বিকেল ৩ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত টিউশন শেষ করে পুনরায় বাসায় ফিরতাম, এর পর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে পড়তে বসতাম।

রাতে পড়া শেষ করে ২ টায় ঘুমাতে যেতাম। এভাবেই চলতে থাকে টানা ৪ বছর জীবন যুদ্ধ।
অবশেষে সকলের দোয়ায় ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা শেষ করি ২০১৮ সালে। ইনটার্নি শেষ করেই একটা স্বনামধন্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সহকারি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ২.৫ বছর চাকরি করি।

সেইখানের প্রজেক্টের চীপ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমার এক বড় ভাই (সুব্রত পাল বাপ্পি ) ছিলেন তিনি অত্যন্ত এক জন ভালো মানুষ ছিলেন যার হাত ধরে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।

সেইখানের প্রজেক্ট শেষ করে নতুন চাকরি নেই একটা ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টে । প্রজেক্টের নাম ( হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টারমিনাল -৩) এখন চকরির পাশপাশি B.Sc ও করতেছি। আগে শুনতাম যে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় কিন্ত এখন এই চিরন্তর বাস্তব কথাটার প্রত্যক্ষ দর্শী আমি নিজে। লেখকের নাম: উৎপল দে, বর্তমান ঠিকানা, খিলখেত, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here